ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দাবি করেছেন, তাঁর যে মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা চলছে, সেটি আংশিকভাবে সম্পাদিত। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে হাকাবি এ দাবি করেছেন।
সম্প্রতি মার্কিন টক শো উপস্থাপক টাকার কার্লসনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকাবিকে বলতে শোনা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর ইসরায়েলের অধিকারের কথা বাইবেলে বর্ণিত আছে। গত শুক্রবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার পর আরব বিশ্বে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। সৌদি আরবসহ অনেকেই তাঁর এই বক্তব্যের নিন্দা জানান।
এর মধ্যেই গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে হাকাবি লিখেছেন, ‘টাকার কার্লসন যে সংস্করণটি এক্সে প্রকাশ করেছেন, তাতে আমার পুরো উত্তরটিকে কাটছাঁট করা হয়েছে। সত্য আমাদের অনেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে টাকারের জন্য তা নয়। দুঃখজনক।’
আরব দেশগুলোর জোট আরব লিগও হাকাবির বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছিল। গতকাল আরব লিগের ‘একজন নতুন অনুবাদক প্রয়োজন’—এমন একটি পোস্টও শেয়ার করেছেন হাকাবি।
শুক্রবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে হাকাবিকে ইসরায়েলের ভৌগোলিক সীমা নিয়ে প্রশ্ন করেন টাকার কার্লসন। বাইবেলের আদিপুস্তকের বরাতে তিনি জানতে চান, আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্রের কি ওই সব ভূমির ওপর অধিকার আছে, যেগুলো আব্রাহামকে (নবী ইব্রাহিম (আ.)) দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা বাইবেলে বর্ণিত আছে?
উল্লিখিত জায়গাগুলোর অবস্থান ইরাকের ফোরাত নদী থেকে মিসরের নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখানে বর্তমানে লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত।
জবাবে হাকাবি বলেন, ‘তারা চাইলে এর পুরোটাই নিয়ে নিতে পারে।’
হাকাবি ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গত বছর ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই তাঁকে নিয়োগ দিয়েছেন।
সমালোচনার মুখে গতকাল হাকাবিকে তাঁর বক্তব্যটি অস্বীকারের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তিনি দাবি করেন, কার্লসন তাঁর কথাগুলোকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
হাকাবি জিউইশ ইনসাইডারের একটি নিবন্ধও শেয়ার করেছেন। ওই নিবন্ধের শিরোনাম হলে, ‘আংশিকভাবে পাওয়া মন্তব্যের ভিত্তিতে সৌদি আরব হাকাবির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ হাকাবির মন্তব্য সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে আল-জাজিরার পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ডিএডব্লিউএনর অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর রায়েদ জারার জোর দিয়ে বলেছেন, হাকাবির এই বক্তব্য কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল না। তিনি এই রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্ত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রায়েদ জারার আল-জাজিরাকে বলেন, ‘একজন রাষ্ট্রদূত যিনি প্রকাশ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ড বিস্তারের সমর্থন করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।’
এই মানবাধিকার কর্মী আরও বলেন, তাঁকে (হাকাবি) অবিলম্বে অপসারণ করা উচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতাকে বিশ্ব হাকাবির মতাদর্শের প্রতি সমর্থন হিসেবেই দেখবে।
ডিএডব্লিউএনর অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর জোর দিয়ে বলেন, হাকাবির এই ‘চরমপন্থী চিন্তাধারা’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জারার বলেন, তিনি যত বেশি সময় এই পদে থাকবেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে কোনো গঠনমূলক ভূমিকা পালনের সক্ষমতা তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

0 Comments