ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ সোমবার শুরু হয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস। এতে অংশ নিচ্ছেন কয়েক শ প্রতিনিধি। সপ্তাহব্যাপী এই কংগ্রেসের মাধ্যমে দেশটির পরবর্তী শীর্ষ নেতা নির্বাচন করা হবে। কংগ্রেসে চলতি দশকের বাকি সময়ের জন্য অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।
কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে যোগ দেওয়া প্রতিনিধিদের জন্য কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, সম্মেলনে ১ হাজার ৬০০ প্রতিনিধিকে স্যামসাং ব্র্যান্ডের ট্যাবলেট কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে। তবে সেগুলোতে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এ ছাড়া তাঁরা কোনো মুঠোফোনও ব্যবহার করতে পারছেন না। তাঁদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতি পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে কমিউনিস্ট পার্টির পরবর্তী জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচন করা হয়। এবারের কংগ্রেসে বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি তো লামের ক্ষমতা আরও সুসংহত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৬৮ বছর বয়সী তো লাম বর্তমানে ভিয়েতনামের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। গত বছরের জুলাইয়ে পূর্বসূরি নগুয়েন ফু ট্রংয়ের মৃত্যুর পর তিনি দলের হাল ধরেন।
ভিয়েতনামের রাজনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, কংগ্রেসে প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিনিধি প্রথমে ২০০ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করবেন। এরপর সেই কমিটি থেকে পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে ১৭ থেকে ১৯ জনকে বেছে নেওয়া হবে। এই পলিটব্যুরো সদস্যদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন দলের জেনারেল সেক্রেটারি।
ধারণা করা হচ্ছে, তো লাম জেনারেল সেক্রেটারি পদে বহাল থাকার পাশাপাশি ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট পদটিও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদটি একজন সামরিক নেতার অধীনে ছিল। তবে কংগ্রেসের পর পলিটব্যুরোই রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও পার্লামেন্ট প্রধানের নাম প্রস্তাব করবে। দলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের পরই সংসদীয় নির্বাচন হবে।
তো লাম তাঁর বর্তমান মেয়াদে বেশ কিছু বড় সংস্কার শুরু করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাঁর পূর্বসূরি নগুয়েন ফু ট্রংয়ের মৃত্যুর পর তিনি এ পদে আসীন হন।
বলা হয়ে থাকে, তো লাম এমন একজন নেতা, যিনি ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন। তিনি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার করেছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বৃদ্ধি করতে তিনি হাজারো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছেন।
তো লামের এ উদ্যোগের ফলে বিদেশি বিনিয়োগের পথ অনেকটা সুগম হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, তাঁর আমলে নিরাপত্তা বাহিনী আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
এবারের কংগ্রেসের মূল এজেন্ডা হলো নিরাপত্তা ও উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের জন্য বার্ষিক অন্তত ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দলটি। এর আগের পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ, যা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। এ ছাড়া ‘বিপজ্জনক’ বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্ত রক্ষা ও কূটনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২৫ জানুয়ারি এই সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিনই ভিয়েতনামের আগামী পাঁচ বছরের নেতৃত্ব ও লক্ষ্যমাত্রার চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

0 Comments