Ad Code

আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে নিহত অন্তত ৬১

 

আফগানিস্তানের পাঞ্জশির প্রদেশের দারা জেলায় তুষারে ঢাকা একটি পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন আফগান পুরুষেরা। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তানের পাঞ্জশির প্রদেশের দারা জেলায় তুষারে ঢাকা একটি পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন আফগান পুরুষেরা। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানে গত তিন দিনে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টির কারণে অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (অ্যান্ডমা) এ তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক পোস্টে জানিয়েছে, গত তিন দিনের তুষারপাত ও বৃষ্টিতে ৬১ জন নিহত, ১১০ জন আহত এবং ৪৫৮টি ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হতাহতের এ ঘটনাগুলো গত বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে মূলত দেশটির মধ্য ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ঘটেছে।


একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোট ৩৬০টি পরিবার এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক ভিডিও বার্তায় তিনি জনগণকে তুষারাবৃত রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছেন।

ওই মুখপাত্র এএফপিকে আরও জানান, হতাহতের অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে ছাদ ও তুষারধসের কারণে। এ ছাড়া হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় অতিরিক্ত ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়েও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে ঘরের ছাদ ধসে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতেও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আফগানিস্তানের পাঞ্জশির প্রদেশের দারা জেলায় তুষার সরিয়ে সেখানে মাটি ছিটিয়ে দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করেছেন একদল মানুষ। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তানের পাঞ্জশির প্রদেশের দারা জেলায় তুষার সরিয়ে সেখানে মাটি ছিটিয়ে দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করেছেন একদল মানুষ। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: এএফপি

কাবুলের উত্তরে পারওয়ান প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান সড়ক সালাং মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কটি আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। এ ছাড়া রাজধানীর পশ্চিমে অবস্থিত বামিয়ান প্রদেশের মধ্যবর্তী পাহাড়ি গিরিপথে আটকা পড়েছেন অনেক পর্যটক। তবে তাঁদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার উজবেকিস্তান থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের একটি সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১২টি প্রদেশের বাসিন্দারা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।

আফগানিস্তানের জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ড্যাবসের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘আমাদের কারিগরি দল প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু সালাং পাস বন্ধ থাকায় তারা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না।’

ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টিতে গ্রামপ্রধান দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দোকানপাট ধ্বংস হয়েছে এবং গবাদিপশু মারা গেছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈদেশিক সাহায্য ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় আফগানিস্তানের চার কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষের এ বছর মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হবে। ভূমিকম্প ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো সেখানে টিকে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তোলে।





আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন



Post a Comment

0 Comments

Close Menu