পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগসহ তিন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি আজকের মতো শেষ করেছে ছাত্রদল। তবে দাবি আদায় না হওয়ায় আগামীকাল বেলা ১১টা থেকে আবারও ইসি ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার জন্য যায় ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছাত্রদলের সভাপতি ছাড়াও ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান।
আলোচনা শেষে নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি ইস্যু নিয়ে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন সেই বক্তব্য শুনেছে। বিষয়গুলো তারা যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের মতো অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দাবি আদায় না হওয়ায় আগামীকাল বেলা ১১টায় আবারও নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।’
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘেরাও চলবে বলে জানান ছাত্রদল সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আরেকটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ২২ জানুয়ারি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে। এরপর যদি আর কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, মব তৈরি করা হয় তাহলে ছাত্রদল বসে থাকবে না।’
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, প্রতিটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করেছে। তারা বলেছে ছাত্রদল নাকি ছাত্র সংসদ নির্বাচন চায় না। তারই ধারাবাহিকতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েও মব তৈরি করা হয়েছে। বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। তারা এগুলো বিবেচনা করবে, এমনটাই আশা।
পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘দেশে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে পোস্টাল ব্যালটের আয়োজন অত্যন্ত দুর্বল ব্যবস্থাপনায় হয়েছে। নির্বাচনের আগেই জামায়াতে ইসলামী এবং শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়া গেছে। এ ঘটনা আমাদের ২০১৮ সালে রাতের ভোটের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। তারাও স্বীকার করেছে যে পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে একধরনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছে, অবিলম্বে তারা এটি সমাধান করবে।’
এর আগে বেলা ১১টা থেকে ইসি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নেন। কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কমিটির কয়েক হাজার নেতা–কর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ছাত্রদলের তিনটি ইস্যু হচ্ছে—১. পোস্টাল ব্যালটসংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

0 Comments