জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগকে, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পজিটিভ বক্তব্য দিচ্ছেন। যদি আপনি আবারও শেখ হাসিনা কিংবা সজীব ওয়াজেদদের ফিরিয়ে এনে সাময়িকভাবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১–দলীয় জোটে যাঁরা আছেন, তাঁদেরকে একটা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দিয়ে আটকে রাখতে চান—এটা হবে আপনাদের ভুল ডিসিশন। আপনার বাবা যে ভুল করেছেন, আপনি সেটার পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছেন।’
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার আদমদীঘির রহিম উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের মাঠে বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ এ কথা বলেন। এ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতের নূর মোহাম্মদ আবু তাহের।
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এক–এগারোর সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আপনার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। আমরা চাই না, আপনার মতো আপনার সন্তানেরও মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হোক। যদি আপনিও তা না চান, তাহলে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের পাঁয়তারা থেকে দূরে থাকতে হবে। আর যদি আপনারা তা করেনই, তাহলে আগামীর বাংলাদেশে আমরা তো আরও দীর্ঘদিন রাজনীতি করব ইনশা আল্লাহ। বাংলাদেশের জনগণ ইতিহাস মনে রাখবে ইনশা আল্লাহ। যদি সেটা আপনারা করেন, তাহলে যখন আবারও আপনার পরিবার বা আপনাদের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের অত্যাচার–অনাচারের শিকার হবেন, তখন কিন্তু আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াব না। তখন কিন্তু আমরা রাজপথে বিগত সময়ের মতো সঙ্গে থাকব না। আপনারা যদি ভুল করেন, সেই ভুলের কর্মফল আপনাদেরই ভোগ করতে হবে।’
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে পছন্দ করি জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে। বাংলাদেশকে তিনি পৃথিবীর বুকে প্রথমবারের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি একটা ভুল করে গেছেন। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে রাজনীতি করার জন্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। তার খেসারত এই দেশের মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে দিতে হয়েছে। আমরা দেখেছি, বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর জীবনের শেষ সময়গুলো কত কষ্টে কাটিয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হয়েছে।’
১১–দলীয় জোট সরকারে গেলে বগুড়ার নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, শুধু রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের কোনো জেলাকে আঞ্চলিক বৈষ্যমের শিকার করা যাবে না। সেই সময় থেকেই আমরা বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসন করে পুনর্বণ্টন করেছি। ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন বগুড়া শহরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে এ আসনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, উন্নয়ন ও শিল্পকারখানার মাধ্যমে কর্মসংস্থান করা হবে। বগুড়ায় যে এয়ারপোর্ট আছে, যেটা শুধু রাজনৈতিক কারণে অচল করে রাখা হয়েছে। সেটাকে আবারও ফাংশনাল করতে চাই। বগুড়ার মেধাবী সন্তানদের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই।’
বগুড়া-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির আবদুল হক সরকার, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান, জকসুর জিএস আবদুল আলিম প্রমুখ। সমাবেশ শেষে আদমদীঘি থেকে সান্তাহার পর্যন্ত ‘মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা’ কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে সান্তাহার পৌর শহরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

0 Comments