Ad Code

#

ম্যাচ পাতানো ও দুর্নীতির দায়ে চীনে সাবেক কোচসহ ৭৩ জন আজীবন নিষিদ্ধ

 

ছবিটি সাংহাই পোর্টের অনুশীলনে তোলা। জরিমানা হওয়া ক্লাবগুলোর মধ্যে এটি একটি
ছবিটি সাংহাই পোর্টের অনুশীলনে তোলা। জরিমানা হওয়া ক্লাবগুলোর মধ্যে এটি একটিইনস্টাগ্রাম/সাংহাই পোর্ট

ম্যাচ পাতানো ও দুর্নীতির দায়ে সাবেক জাতীয় দলের প্রধান কোচ লি তিয়েসহ ৭৩ জনকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। পাশাপাশি ১৩টি শীর্ষ পেশাদার ক্লাবকে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানায় তারা।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের অধীনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের ফুটবলে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে, যা পেশাদার ফুটবলে পচন ধরার বাস্তব চিত্র উন্মোচন করেছে।


চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (সিএফএ) একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা পদচ্যুত হয়েছেন, আর ম্যাচ পাতানো ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ডজনখানেক খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে সদ্য ঘোষিত ম্যাচ পাতানোর ঘটনাগুলো ঠিক কবে ঘটেছে বা কীভাবে ঘটেছে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

সিএফএ তাদের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে জানায়, ‘পদ্ধতিগত পর্যালোচনার’ পর এসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং ‘শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, ফুটবলের পরিবেশকে পরিশুদ্ধ করতে এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে’ এই শাস্তির প্রয়োজন ছিল।

এভারটনের সাবেক খেলোয়াড় লি তিয়ে ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত চীনের জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। ইতিমধ্যে ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তাঁর। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়। সিএফএ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, লি তিয়ে ছাড়াও আরও ৭২ জনকে ফুটবল থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ হওয়ার এই তালিকায় আছেন সিফএর সাবেক চেয়ারম্যান চেন শুয়ুয়ান। ১ কোটি ১০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে ইতিমধ্যে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
সিএফএ যেসব ক্লাবকে শাস্তি দিয়েছে, তাদের বেশির ভাগই শীর্ষ লিগের। ২০২৫ মৌসুমে চীনের শীর্ষ লিগ চায়নিজ সুপার লিগে (সিএসএল) অংশ নেওয়া ১৬টি ক্লাবের মধ্যে ১১টির পয়েন্ট কাটা হবে এবং জরিমানা করা হবে। তাতে অবনমন হওয়ার কারণে ২০২৬ সালের মার্চে যখন নতুন মৌসুম শুরু হবে, তখন ৯টি দল লিগ শুরু করবে নেতিবাচক পয়েন্ট নিয়ে।

তিয়ানজিন জিনমেন টাইগার এবং গত মৌসুমে রানার্সআপ সাংহাই শেনহুয়াকে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের ১০ পয়েন্ট কাটা হবে এবং ১০ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার) জরিমানা করা হয়।

গত তিন মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন সাংহাই পোর্টের ৫ পয়েন্ট কাটার পাশাপাশি ৪ লাখ ইউয়ান জরিমানা করা হয়। একই শাস্তি দেওয়া হয় বেইজিং গোয়ানকেও।

সিএফএ এসব ক্লাবের অপরাধের বিস্তারিত জানায়নি। শুধু বলা হয়েছে, এসব অপরাধ ‘ম্যাচ পাতানো, জুয়া ও ঘুষের’ সঙ্গে সম্পর্কিত এবং শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ‘লেনদেনের পরিমাণ, পরিস্থিতি, প্রকৃতি ও সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে’।

সিএফএর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সব সময় শূন্য-সহনশীলতার নীতি বজায় রাখব এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। ফুটবলে শৃঙ্খলা বা নিয়ম ভঙ্গের কোনো ঘটনা ধরা পড়লে কোনো রকম ছাড় বা সহানুভূতি ছাড়াই তা তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চীনের অনেক পেশাদার ফুটবল ক্লাব আর্থিক সংকটে রয়েছে। চায়নিজ সুপার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ক্লাব গুয়াংজু এফসি গত বছর বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, নতুন মৌসুম শুরুর আগে তারা সময়মতো তাদের দেনা পরিশোধ করতে পারেনি। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একজন ফুটবলপ্রেমী এবং তাঁর আশা, একদিন চীন বিশ্বকাপ আয়োজন করবে এবং জিতবে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি চীন।








Post a Comment

0 Comments

Close Menu