Ad Code

সামনে কী: আর্সেনালের এফএ কাপও গেল

হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন বেন হোয়াইট
হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন বেন হোয়াইটএএফপি

মাত্র ১৪ দিন আগেও ট্রেবল তো বটেই, কোয়াড্রপলের স্বপ্ন দেখছিল আর্সেনাল। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যে সেই স্বপ্ন ভেঙে দুই টুকরা হয়ে গেছে।

মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতি শুরুর আগে কারাবাও কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হার ছিল বড় ধাক্কা। তবে তার চেয়েও বড় ধাক্কা এল এবার এফএ কাপে। যে দলটি এবার প্রিমিয়ার লিগেই নেই, দ্বিতীয় স্তরের লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে ঘোরাফেরা করছে ৭ থেকে ৮ নম্বরের মধ্যে, সেই সাউদাম্পটনের কাছে গতকাল এফএ কাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে হেরেছে মিকেল আরতেতার দল।

যার অর্থ, টানা দুই ম্যাচে দুটি শিরোপা সামনে থেকে উধাও। এখন বাকি শুধু প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ। কিন্তু সাম্প্রতিক ফর্ম যেভাবে পড়তির দিকে, তাতে এই দুই ট্রফি নিয়েও আর্সেনাল-সমর্থকদের শঙ্কা বেড়ে যাওয়ার কারণ আছে যথেষ্টই।

এমনিতে প্রিমিয়ার লিগ পয়েন্ট তালিকায় তাকালে অস্বস্তি কমই থাকার কথা। এই মুহূর্তে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে। সিটি অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলেছে। সেটিতে পেপ গার্দিওলার দল ৩ পয়েন্ট পাবে ধরে নিলেও আর্সেনাল এগিয়ে থাকছে ৬ পয়েন্টে।

আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়েও চাপ অন্যদের তুলনায় একটু হলেও কম। এবার যে আট দল মহাদেশীয় প্রতিযোগিতার সেরা আটে উঠেছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বলে বিবেচিত স্পোর্তিং সিপি আর্সেনালের প্রতিপক্ষ। উপরন্তু দ্বিতীয় লেগ খেলার সুযোগ থাকছে নিজেদের মাঠেই।

কিন্তু এই স্বস্তির দিকগুলো অস্বস্তির হয়ে উঠেছে কারাবাও কাপ আর এফএ কাপের তেতো অভিজ্ঞতায়। দুই হারে শুধু দুটি শিরোপাই নাগাল থেকে সরে যায়নি, আর্সেনাল ২০২৫-২৬ মৌসুমে টানা দুটি ম্যাচেই হেরেছে এই প্রথম।

টানা ৭ মাস ম্যাচের পর ম্যাচ, টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্ট ধরে লাগাতার ভালো খেলে যে আত্মবিশ্বাস জমা হয়েছিল, সেটা যেন এক নিমেষেই ফুটো হয়ে গেছে। ২০০৪ সালের পর প্রথমবার লিগ জেতার সুযোগও তাই পিছলে যায় কি না, সে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সাবেক আর্সেনাল ফরোয়ার্ড থিও ওয়ালকট যেমন বললেন, ‘তারা আগেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছিল, নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চাইবে না।’

আরও পড়ুন

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ২৫ কোটি পাউন্ড খরচ করা আর্সেনালের এমন পরিস্থিতিতে পড়ার পেছনে অস্থিরতার প্রভাব দেখছেন ওয়ালকট, ‘সাইডলাইনে মিকেলকে দেখে মনে হচ্ছিল গত কয়েক বছরের কিছু প্রতিচ্ছবি সেখানে ফুটে উঠছে, যে অস্থিরতা দলের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছিল। শুধু মিকেলই নন, মাঝেমধ্যে অনেক স্টাফ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এটা অনেকটা অতি সন্নাসীতে গাজন নষ্টের মতো।’

কোচ আরতেতা অবশ্য ফর্ম পড়ে যাওয়া নিয়ে খেলোয়াড়দের দুষতে রাজি নন। নিজের ওপর দায় নিয়ে তিনি বলেন, ‘৯ মাস ধরে খেলোয়াড়েরা যা করেছে, তা অসামান্য। তারা যেভাবে এখানে চেষ্টা করেছে, তাতে কোনো ম্যাচ হেরে গেলে আমি তাদের সমালোচনা করব না।’

আরতেতার জন্য মাথাব্যথা হয়ে এসেছে দলের মধ্যে চোটের তীব্র সমস্যা। কারাবাও কাপ ফাইনালে সিটির বিপক্ষে যে দলটি মাঠে নেমেছিল, এফএ কাপে সেই দল থেকে সাতটি পরিবর্তন আনতে হয়েছে তাঁকে। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে আর্সেনালের ১১ খেলোয়াড় জাতীয় দল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর গুঞ্জন ওঠে, আরতেতা হয়তো চাপ দিয়েছিলেন। তবে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে দেখা গেল, নাম প্রত্যাহার করা তিন খেলোয়াড় ডেকলান রাইস, বুকায়ো সাকা এবং লিয়ান্দ্রো ত্রোসার স্কোয়াডেই ছিলেন না, উইলিয়াম সালিবাকে রাখা হয় বেঞ্চে।

মিকেল আরতেতার সামনে চ্যালেঞ্জিং সময়
মিকেল আরতেতার সামনে চ্যালেঞ্জিং সময়
এএফপি

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের চোট, সাউদাম্পটন ম্যাচের মধ্যে হাঁটুর চোটের কারণে তাঁকে তুলে নিতে হয়েছে। মৌসুমের শেষ দিকে এতগুলো খেলোয়াড়ের চোটে ভোগা যেকোনো দলের জন্য শঙ্কার, দলটি যদি শিরোপাজয়ের কাছাকাছি থাকে, তাহলে তো কথাই নেই।

সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার মিকাহ রিচার্ডস তো মনে করছেন আর্সেনালকে এখন তাড়া করে ফিরবে সিটি। আর্সেনাল যে তিনবার রানার্সআপ (সর্বশেষ তিন মৌসুমে) হয়েছে, দুবারই চ্যাম্পিয়ন ছিল গার্দিওলার দল। এবার কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও চাপে রাখার সুযোগ আছে দলটির।

কারণ, চলতি এপ্রিলে আর্সেনালকে এক ম্যাচ খেলতে হবে ইতিহাদে গিয়েই। তারওপর কারাবাও কাপ জেতা সিটি এফএ কাপে লিভারপুলকে উড়িয়ে দিয়ে এখন উজ্জীবিত, চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ায় লিগের বাইরে বড় ব্যস্ততাও নেই। রিচার্ডস তাই আর্সেনালের জন্য স্বস্তিদায়ক ভবিষ্যৎ দেখছেন না, ‘কয়েক সপ্তাহ আগেও মানুষ বলছে আর্সেনাল কোয়াড্রপল জিতবে। এখন টিকে আছে মাত্র দুটিতে। ম্যান সিটি যেভাবে খেলছে, মনে হচ্ছে লিগের জন্য আর্সেনালকে শেষ পর্যন্ত তাড়া করে ফিরবে।’

আরও পড়ুন


Post a Comment

0 Comments

Close Menu