রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’–সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি এর মধ্যে দিয়েই সংসদের অধিবেশনে ঢোকেন। তিনি স্পিকারের পাশে বসেন। সংসদে হইচই করতে থাকেন বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যেই বক্তব্য শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর বক্তব্য চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদি সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। মূল্যস্ফিতী ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়ে তথ্য জানান। কৃষি, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে নেবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রপতি।
দর্শক গ্যালারিতে অধ্যাপক ইউনূস, জুবাইদা ও জাইমা রহমান
দর্শক গ্যালারিতে অধ্যাপক ইউনূস, জুবাইদা ও জাইমা রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত আছেন সাবেক অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। পিএমও ও বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ছবিতে তাঁদের দেখা যায়।
শোকপ্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ঘোষণা দিলেন স্পিকার
খালেদা জিয়া ও জুলাই যোদ্ধাদের শোকপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর শোকপ্রস্তাব গৃহীত হলো বলে ঘোষণা দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
খালেদা জিয়ার শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর, জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা, এক মিনিট নীরবতা
শোক প্রস্তাবের ওপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা হয়। শোক প্রস্তাবে জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা করেন সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নাহিদ ইসলাম, জোনায়েদ সাকি ও শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি।
আলোচনার পর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
খালেদা জিয়া আজ সংসদে থাকলে সবচেয়ে খুশি হতেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার–১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। যত আসনেই নির্বাচন করেছেন সব আসনেই খালেদা জিয়া জিতেছেন। তিনি বলেন, আজকে সেই গণতন্ত্রের মা আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি মানুষের মাঝে আছেন। গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি জীবিত থাকবেন। তিনি একাত্তর ও জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শোক প্রস্তাবের ওপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আলোচনা চলার সময় সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদের পর খালেদা জিয়ার শোকপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম।
শরিফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ, ফেলানী খাতুনের নাম শোক প্রস্তাবে আনার দাবি নাহিদের
শরিফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ, ফেলানী খাতুনের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
খালেদা জিয়া, মনমোহন, খামেনি ও ৩১ জন সংসদ সদস্যের প্রতি শোকপ্রস্তাব, নিজামী– সাঈদী–হাদিসহ বিভিন্ন নেতার নামে শোকপ্রস্তাব আনার দাবি বিরোধী দলের
সংসদে শোকপ্রস্তাব আনা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের প্রতি শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
এ সময় চিফ হুইপ বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের নাম শোকপ্রস্তাবে আনার কথা বলেন।
পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, শোকপ্রস্তাবটি একপেশে। তিনি মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শরিফ ওসমান হাদিসহ বিভিন্ন নেতাদের নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন। স্পিকার বলেন, নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আপনি লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা, আপনি পারবেন: স্পিকারকে বললেন বিরোধী নেতা
বিরোধী দলের নেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্পিকারের কাছে সরকারি ও বিরোধী দল আলাদা হবে না। স্পিকারের কাছে সুবিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা জানান বিরোধী দলের নেতা। অনেক তরুণ নেতা আছেন উল্লেখ করে নিজেকেও তরুণ বলেন বিরোধী দলের নেতা।
স্পিকারকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা। আপনি পারবেন। স্পিকারের কাছ থেকে শুধু ইনসাফ আশা করেন বলেন শফিকুর রহমান। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
স্পিকারের বক্তব্যের পর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজকের এই সংসদ, বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, এই সংসদকে সরকার প্রাণবন্ত করে তুলতে চায়। এ ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে সহযোগিতা করার প্রত্যয় জানান। তাঁদের অভিনন্দন জানান।
সবার আগে বাংলাদেশ, এই হোক মূলমন্ত্র: সংসদে স্পিকার
নামাজের বিরতির পর বেলা দেড়টার একটু পরেই সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। আর এই সংসদ গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন।
স্পিকার বলেন, বিভিন্ন সময় স্বৈরশাসকের আগমন ঘটেছে। বাংলাদেশের জনগণ লড়াই করেছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট জনগণকে বিদায় দেওয়া হয়েছে। এই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।
স্পিকার আরও বলেন, জনগণ সংসদের কার্যক্রম দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষ জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা করেন স্পিকার। নিরপেক্ষতার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ, এই হোক আমাদের মূলমন্ত্র।
বিরতির আগে স্পিকারের মাইকে গোলযোগ
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ জোহরের নামাজের জন্য সংসদ অধিবেশনে ২০ মিনিট বিরতি ঘোষণা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে তিনি এই ঘোষণা দেন। কারিগরি ত্রুটির জন্য সংসদের মাইক এ সময় কাজ করছিল না। স্পিকার হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশনে আধঘন্টার জন্য বিরতি ছিল। এ সময় রাষ্ট্রপতি সংসদ ভবনে তাঁর কার্যালয়ে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান। পরে বেলা ১২ টা ৫৫ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর আসনে বসেন। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্পিকারের মাইকে শব্দ হচ্ছিল না। এ কারণে শুরু করতে একটু দেরি হয়। প্রায় তিন মিনিট পরে একটি হ্যান্ড মাইকে বক্তব্য শুরু করেন স্পিকার।
এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকেই দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, তাঁরা বক্তব্য শুনতে পাচ্ছেন না। তখন স্পিকার যান্ত্রিক গোলোযোগের কথা জানান এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। এরমধ্যে জোহরের আজান শুরু হয়।
নতুন মন্ত্রী হলেন আহমেদ আযম খান
মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যের নাম ঘোষণা করলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন টাঙ্গাইল–৮ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান। তাঁকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটার দিকে তিনি এই শপথ নেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পরে এই শপথ পড়ানো হয়। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এই শপথ পড়ানো হয়।
এরপরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন কায়সার কামাল
ডেপুটি স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি হলেন সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল। তিনি এই দায়িত্বপালনে সম্মত বলে জানান সভাপতি। তিনি প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রস্তাব উত্থাপনের পর এটি সমর্থন করেন আরেক হুইপ আশরাফ উদ্দীন নিজান।
প্রস্তাবটি সংসদে পেশ করা হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়।
স্পিকার নির্বাচিত হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ
জাতীয় সংসদে স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য (ভোলা–৩) মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি এই দায়িত্বপালনে সম্মত আছেন বলে জানান সভাপতি। তিনি প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাব সমর্থন করেন হুইপ রকিবুল ইসলাম।
প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সব সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন সভাপতি মোশাররফ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দায়িত্বপালনের সুযোগ পেয়ে সম্মানিতবোধ করছেন বলে জানান তিনি। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সব সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সভাপতি হিসেবে মোশাররফের হোসেনের নাম প্রস্তাবকে সমর্থন জানালেন বিরোধী দলীয় উপনেতা
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাবকে সমর্থন জানালেন সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সভাপতিত্ব করার জন্য খন্দকার মোশাররফের নাম প্রস্তাব
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন– সংগ্রামে সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোস করেননি। তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
তারেক রহমান বলেন, দল–মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। এভাবে বিএনপি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায় বলেন তিনি। তিনি এতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী ।
তারেক রহমান সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এতে পূর্ণ সমর্থন জানান বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।
সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়।
সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয় তাঁর সভাপতিত্বে। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে।
দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে।
এমন পরিস্থিতিতে আজ সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসনটি ফাঁকা রেখেই শুরু হয় অধিবেশন।
















0 Comments