Ad Code

#

লিমনকে গুলির ঘটনায় র‍্যাবের তৎকালীন সাত সদস্যের বর্তমান অবস্থান জানাতে নির্দেশ

 

লিমন হোসেন
লিমন হোসেনফাইল ছবি

ঝালকাঠির রাজাপুরে ১৫ বছর আগে র‍্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনকে ২ কোটি ৬০ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িত র‍্যাবের (র‍্যাব–৮ ঝালকাঠি, বরিশাল) তৎকালীন সাত সদস্যের বর্তমান অবস্থান নির্ণয় ও তাঁদের ঠিকানা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইনসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‍্যাবের মহাপরিচালক, র‍্যাব–৮–এর কমান্ডার ইন চার্জসহ বিবাদীদের প্রতি ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লিমন হোসেনের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন।


ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের লিমন হোসেন ২০১১ সালে ২৩ মার্চ মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে র‍্যাবের গুলিতে পা হারান। ‘সন্ত্রাসী’ সন্দেহে আটক করার পর তাঁর পায়ে গুলি করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে র‍্যাব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে ২০১৩ সালে তাঁকে দুটি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার সময় লিমনের বয়স ছিল ১৬ বছর। তাঁকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলেন।

জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানের পর ওই ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে গত বছর রিট করেন লিমন হোসেন। রিটে বেআইনি বলপ্রয়োগ, আটক, নির্যাতন, হয়রানি, পায়ে গুলি করা, তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ৬০ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।


আদালতে লিমনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, আবদুল্লাহ আল নোমান ও প্রিয়া আহসান চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল করিম।

আদেশের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৬ বছর বয়সে তাঁর (লিমন হোসেন) পা উড়িয়ে দেন র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা। হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন যে তাঁকে গুলি করা, আটক করা, তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা ও বেশ কয়েক বছর ধরে মামলা জিইয়ে রাখা এবং তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করা—এটা কেন আইনবহির্ভূত ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। ওই ঘটনার জন্য তাঁর যে ক্ষতি হয়েছে, শুধু পা উড়িয়ে দেওয়াই নয়, তাঁকে নানা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে ও পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটেছে, সে জন্য তাঁকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না—এ মর্মেও রুল হয়েছে।’


অন্তর্বর্তীকালীন আদেশও হয়েছে উল্লেখ করে সারা হোসেন বলেন, ‘র‍্যাবের যে কর্মকর্তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরা কোথায় আছেন, তাঁদের যাতে চিহ্নিত করা হয়, তাঁদের অবস্থান যেন আদালতের কাছে জানানো হয়। যে আদেশটা হয়েছে, সেটি আসলে ১৫ বছরের একটা বিচারের যাত্রার বড় একটা ধাপ আমরা অতিক্রম করেছি।’

লিমনের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরে। লিমনের পা হারানোর ঘটনা সে সময়ে ছিল আলোচিত একটি ঘটনা।


২০১১ সালের ২৩ মার্চ এইচএসসি পরীক্ষার্থী লিমন র‍্যাবের গুলিতে পা হারান। তবে দমে যাননি লিমন হোসেন। লিমন পিজিএস কাউখালী কারিগরি বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৭ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৯ সালে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি।

আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে লিমন হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আসলে একটা ন্যায়বিচারের যাত্রা শুরু হলো মাত্র। এখনো ন্যায়বিচার পাইনি। গত ১৫ বছর আমি এবং আমার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষী যারা ছিল, প্রত্যেকের একটা চাওয়া ছিল, যেন আমরা ন্যায়বিচার পাই। আজ সেই ন্যায়বিচারের যাত্রাটা শুরু হলো।’




বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন




Post a Comment

0 Comments

Close Menu