সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতা, প্রাণহানি, রাজনৈতিক ও পূর্বশত্রুতাজনিত হামলা, সংঘর্ষ, নারী নির্যাতন এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। একই সঙ্গে সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানিয়েছে এমএসএফ। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে ভোলা, নাটোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, গাজীপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নেত্রকোনা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়, নরসিংদী, লালমনিরহাট এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে সংঘটিত হামলায় সাড়ে তিন শ রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যালয় ও কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নোয়াখালীর হাতিয়ায় একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সহিংসতা আরও উসকে দিতে পারে। বাংলাদেশে অতীতের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয়, দৃশ্যমান ও কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু এবং সামাজিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী অধিকতর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মৌলিক নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়, পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সহিংসতা বন্ধ করা ও দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক দল, সচেতন নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে যার যার অবস্থান থেকে সহিংসতা রোধে যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

0 Comments