শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের পেদাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ওই এলাকার মোশাররফ পেদার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আমজাদ পেদার পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন মোশাররফ পেদা (৭৫), মোতালেব পেদা (৮০), হোসনে আরা (৪৫), সোনিয়া আক্তার (৩৫), আমজাদ হোসেন পেদা (৬৫), সোহাগ পেদা (২৫) ও মনির হোসেন পেদা (৫৫)। আহত ব্যক্তিদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত হোসনে আরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মোশাররফ পেদার পরিবারের সঙ্গে আমজাদ পেদার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরের দিকে এলাকায় গরুর দুধ বিক্রি নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ দেশি ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
আহত মোশাররফ পেদা বলেন, ‘আমজাদ পেদার পরিবারের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ। যেকোনো বিষয়ে তারা আমাদের বিরোধিতা করে। আজ গাভির দুধ বিক্রি নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আমজাদ পেদা, মনির পেদা, বাবু পেদা, সোহাগ পেদাসহ পাঁচ–ছয়জন শাবল, কোদাল, দা ও লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের চারজনকে কুপিয়ে আহত করে।’
আমজাদ পেদার ছেলে শাহাজালাল পেদা বলেন, ‘গরুর দুধ বিক্রি নিয়ে আমার বাবা ও মোশাররফ পেদার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়।’
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। এখন এলাকা শান্ত আছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 Comments