Ad Code

#

সব মতের ভোটারকে কাছে টানার চেষ্টা নুরুদ্দিন আহাম্মেদের

 

শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ (অপু) গণসংযোগ করছেন। শনিবার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকায়
শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ (অপু) গণসংযোগ করছেন। শনিবার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকায়ছবি: সত্যজিৎ ঘোষ

হামলা, কারাভোগ আর রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে আবারও ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন শরীয়তপুর–৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ (অপু)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার এই সময়ে তিনি সব মতের মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শরীয়তপুর–৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ। সেবার নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে তিনিসহ বহু নেতা-কর্মী আহত হন। এর কয়েক দিন পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে জামিনে মুক্তি পান মিয়া নুরুদ্দিন।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে শরীয়তপুর–৩ আসন গঠিত। এই আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এবার মিয়া নুরুদ্দিন ছাড়া এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতের মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের হানিফ মিয়া ও জাতীয় পার্টির আব্দুল হান্নান।


ঢাকার জগন্নাথ কলেজের ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদের রাজনীতিতে আসা। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি তারেক রহমানের একান্ত সচিব নিযুক্ত হন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুদ্দিন আহাম্মেদ নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি গ্রাম, হাটবাজারে যাচ্ছেন। মানুষের কাছে বিএনপির ৩১ দফা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

নুরুদ্দিন আহাম্মেদ আজ রোববার সকাল ১০টার দিক বাড়ি থেকে বের হয়ে গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ও হাটবাজারে মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। চায়ের দোকানে বসে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, ভোট চান। দুপুরের দিকে যান গোসাইরহাট উপজেলা স্টেডিয়ামে। সেখানে একটি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করে খেলোয়াড় ও দর্শকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর বিকেলে যান নাগেরপাড়া বাজারে। সেখানে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করেন। ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন। এরপর সন্ধ্যায় নাগেরপারা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন।


মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই জনপদের সন্তান আমি। এলাকার মানুষদের বিএনপি পরিবার ভেবে কাছে পাচ্ছি, মানুষও সেভাবে ভাবছে। বেগম খালেদা জিয়া ভালোবেসে ২০১৮ সালে মনোনয়ন দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। আপনারা দেখেছেন, কেন সেই নির্বাচনে আমরা টিকে থাকতে পারিনি। আওয়ামী লীগের আঘাতে শরীর রক্তাক্ত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান আবার আমাকে এলাকার মানুষের সেবা করার জন্য পাঠিয়েছেন। এলাকার মানুষও আমাকে দলমত–নির্বিশেষে কাছে টেনে নিয়েছেন। সারা দেশে একটি নজির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে তারেক রহমানকে ও আমাকে ভালোবেসে আওয়ামী লীগসহ সব দলমতের লোক মঞ্চে উঠছেন, পাশে থেকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আমিও তাঁদের সঙ্গে থেকে রাজনীতিটা করতে চাই।’

নির্বাচনে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন না মন্তব্য করে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘এখানে সব প্রার্থী প্রচার–প্রচারণায় সমান সুযোগ পাচ্ছেন। ভোটাররা যাঁকে খুশি বেছে নেবেন। আমি যেভাবে মানুষের ভালোবাসা ও সাড়া পাচ্ছি তাতে আশাবাদী, বিপুল ভোটে বিজয় আসবে। শরীয়তপুরকে নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্ল্যান রয়েছে। এখানে কৃষি ও মৎস্যনির্ভর অর্থনীতিকে আরও বেগবান করতে আমরা কাজ করব। এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল করার পরিকল্পনা রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে আমরা কাজ করব, এমন প্রতিশ্রুতি নারী ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছে।’


বিএনপির নেতা–কর্মীরা বলছেন, সাধারণ ভোটার ও বিএনপির কর্মী–সমর্থকদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থকেরাও নুরুদ্দিন আহাম্মেদকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গত দেড় মাসে তাঁর হাত ধরে অন্তত ৩ হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তাঁরা তাঁর নির্বাচনী সভা ও উঠান বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। মিয়া নুরুদ্দিনকে সমর্থন জানিয়ে ধানের শীষে ভোট চাচ্ছেন। তিনিও সব মতের মানুষদের নিয়ে রাজনীতিতে পথ চলতে চান, এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।






বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন




Post a Comment

0 Comments

Close Menu