Ad Code

১৫ বছর বয়সেই ডিক্যাপ্রিও বুঝে গিয়েছিলেন...

 

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এএফপি
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এএফপি

চলতি বছরের বড় পুরস্কারে লড়ছে পল টমাস অ্যান্ডারসনের সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। ছবির অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও আছেন আলোচনায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা স্মৃতি ঝালিয়ে নিয়েছেন—কখনো প্রোডাকশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার গল্প, আবার কখনো প্রিয় নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার আনন্দ।

টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলিউডের এই তারকা জানান, খুব অল্প বয়সেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, কী ধরনের অভিনেতা হতে চান। ডিক্যাপ্রিও বলেন, ‘আমি যখন ১৫ বছরের, তখনই স্পষ্টভাবে জানতাম—আমি কী ধরনের অভিনেতা হতে চাই এবং কী ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চাই। সবচেয়ে বেশি যেটা চাইতাম, সেটা হলো দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা। আমি ক্যারিয়ারকে সব সময় ম্যারাথনের মতো দেখেছি, ছোট দৌড়ের মতো নয়।’

শৈশব ও ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো স্মরণ করে ডিক্যাপ্রিও বলেন, বিজ্ঞাপন আর টিভির ছোটখাটো কাজ দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। জনপ্রিয় সিটকম ‘গ্রোয়িং পেইনস’-এ কাজ করার পরই তাঁর সামনে খুলে যায় বড় পর্দার দরজা।

‘ভাগ্য ভালো যে ১৯৯৩ সালে “দিস বয়েজ লাইফ’’ ছবিতে রবার্ট ডি নিরোর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই। সেটাই আমার সিনেমার ক্যারিয়ারকে এগিয়ে দেয়,’ বলেন ডিক্যাপ্রিও। এরপর আসে ‘হোয়াটস ইটিং গিলবার্ট গ্রেপ’। এই চরিত্রের জন্য তাঁকে নিতে প্রযোজকেরা প্রথমে দ্বিধায় ছিলেন। ‘কিন্তু চরিত্রটা নিয়ে আমি খুব পরিশ্রম করি। এটাই ছিল আমার জীবনে প্রথম সত্যিকারের চরিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা,’ যোগ করেন তিনি।

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এএফপি
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এএফপি

প্রিয় নির্মাতাদের কথা বলতে গিয়ে ডিক্যাপ্রিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন পল টমাস অ্যান্ডারসন ও কুয়েন্টিন টারান্টিনোর নাম। তাঁর ভাষায়, ‘পল টমাস অ্যান্ডারসন আর কুয়েন্টিন টারান্টিনো দুজনই সিনেমাপ্রেমী। সিনেমার ইতিহাসের প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা আছে। পল আমাদের এমন সব লোকেশনে নিয়ে যেতেন, যা চরিত্রের ভেতরে বাস্তবতার ছাপ বসিয়ে দিত। কুয়েন্টিনও ঠিক তেমনই।’

‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমায় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। আইএমডিবি
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমায় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। আইএমডিবি

‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন হলিউড’ ছবির শুটিংয়ের স্মৃতি টেনে ডিক্যাপ্রিও বলেন, ‘হলিউড বুলেভার্ড দিয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ মনে হলো, আমি যেন সরাসরি ১৯৬৯ সালের হলিউডে ঢুকে পড়েছি। লস অ্যাঞ্জেলেসের সবচেয়ে ব্যস্ত আর পর্যটনবান্ধব জায়গাগুলো পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়েছিল, দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।’

আর মার্টিন স্করসেজির সঙ্গে ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’ ছবির অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন রকম। ডিক্যাপ্রিও বলেন, ‘স্করসেজি দিনের পরদিন নির্দিষ্ট কিছু ছবি দেখান, যাতে আমরা বুঝতে পারি, তিনি আসলে কী ধরনের আবহ চান। তিনি চেয়েছিলেন আড়ম্বর আর ভোগবিলাসের একটা অনুভূতি। “আই অ্যাম নট লিভিং” সংলাপটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কিন্তু তার আগের দিন আমার টনসিলের সমস্যা হয়েছিল, ফলে শুটিং বন্ধ রাখতে হয়। তবে সেটাই ভালো হয়েছিল—আমি ওই বক্তৃতার প্রতিটি স্তর নিয়ে ভাবার সময় পেয়েছিলাম।’

ডিক্যাপ্রিওর এই স্মৃতিচারণায় স্পষ্ট, ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে তিনি শুধু সাফল্যের পেছনে ছোটেননি; বরং সচেতন সিদ্ধান্ত আর দীর্ঘ পথচলার দর্শনেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন


বিনোদন থেকে আরও পড়ুন

Post a Comment

0 Comments

Close Menu