১৬: ৫৮
সংঘাত শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ১৩টি জাহাজে হামলা: ইউকেএমটিও
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি জাহাজে হামলার খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
সংস্থাটি জানায়, জাহাজ নিয়ে এ ছাড়া আরও চারটি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আরব সাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত মোট ১৭টি ঘটনার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে ওই অঞ্চলে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘অজ্ঞাত বস্তুর (প্রজেক্টাইল)’ আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই তথ্য জানিয়েছে ইউকেএমটিও। ওমান উপকূলের উত্তরে একটি জাহাজে হামলা হওয়ার পর এর ক্রুরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
ইরাকের কুর্দিস্তানে ড্রোন হামলায় এক কুর্দি যোদ্ধা নিহত
ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক কুর্দি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার কোমালা পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান এ তথ্য জানিয়েছে।
কোমালা পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান জানায়, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের সুলাইমানিয়া শহরের কাছে জরগুয়েজালা এলাকায় তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দলটির কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় অন্তত আটটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে একজন যোদ্ধা নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।
দলটির কর্মকর্তা আলী রাঞ্জদার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সূত্র বলছে, ওয়াশিংটন চায় ইরাকের কুর্দি যোদ্ধারা ইরানে স্থল অভিযান শুরু করুক। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা হয়নি।
এদিকে ইরান এর আগেও ইরাকের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী পশ্চিমা বা ইসরায়েলি স্বার্থে কাজ করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রিসেন্ট
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান হামলায় ইরানজুড়ে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাটির তথ্যমতে, তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ হাজার ৭৩৪টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার হাসপাতাল, স্কুল এবং ত্রাণ সহায়তা কেন্দ্রও রয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে ৭৭টি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালিত ১৬টি স্থাপনাও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে পরপর ৩টি জাহাজে হামলা, একটিতে আগুন
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পৃথক তিনটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু (প্রজেক্টাইল) আঘাত হেনেছে বলে আজ বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একটি জাহাজে হামলার পর সেটিতে আগুন ধরে যায় এবং বেশিরভাগ কর্মীকে সরিয়ে নিতে হয়।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওমানের প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘ময়ুরি নারি’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার হামলার শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, জাহাজটির আগুন নেভানো হয়েছে এবং এতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। প্রয়োজনীয় কিছু কর্মী এখনো জাহাজটিতে অবস্থান করছেন।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে জাপানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান মেজেস্টি’ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। জাহাজের কর্মীরা নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটি নিরাপদ নোঙরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দুবাইয়ের প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে তৃতীয় একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও হামলার শিকার হয়েছে।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সংস্থা ভ্যানগার্ড জানায়, মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের ওই জাহাজটির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর কর্মীরা নিরাপদ আছেন।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পারাপার হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই পথে জাহাজ চলাচল অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে।
সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৪–এ।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আহত হলেও নিরাপদ আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধকালীন চোটে আহত হলেও বর্তমানে ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন।
আজ বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসেফ পেজেশকিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে ইউসেফ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছিলাম যে মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে ‘রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও তাঁর আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিন দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি। এর পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তাঁর স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই এই খবর এল।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি ও দুজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রথম দিনই মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়: কাতার
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে আল-জাজিরাকে বলেন, প্রতিবেশীদের ওপর ইরানের এই হামলা ‘কারও জন্যই কোনো সুফল বয়ে আনবে না’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে (মূলত মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে) ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে হতাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষতি এবং এ অঞ্চলের জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় কাতার ‘চরম উদ্বিগ্ন’ উল্লেখ করে আল-খুলাইফি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি, তা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি, আলোচনার টেবিলে ফেরা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের আর কোনো পথ নেই।’
কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর এমন ‘অযৌক্তিক ও জঘন্য’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ‘আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় কাতার সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সংকটের একটি ‘বৈশ্বিক সমাধান’ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন আল-খুলাইফি। তিনি বলেন, এ জলপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
আল-খুলাইফি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ‘কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো এতদিন ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে ‘‘সেতুবন্ধন’’ হিসেবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিল। কিন্তু হামলা অব্যাহত থাকলে দেশগুলোর পক্ষে আর সেই ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। এটি ইরানকে বুঝতে হবে।’
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি কয়েক দিন আগে তেহরানের সঙ্গে ফোনালাপে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন। আল-খুলাইফি বলেছেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়, কিন্তু ইরানিরা সেটি বুঝতে পারছেন না।’
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা








0 Comments