ইরান যুদ্ধ: দেশের অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি ‘কোবরা’ বৈঠক ডেকেছেন স্টারমার
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আজ সোমবার এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বৈঠকে চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার (অর্থমন্ত্রী) র্যাচেল রিভস এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি উপস্থিত থাকবেন।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেওয়ার অজুহাতে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘তছনছ’ করার হুমকি কার্যকর করেন, তবে তারা পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানবে। এই উত্তেজনা শুরুর পর আর্থিক বাজারগুলো আরও একটি অস্থির সপ্তাহের মুখোমুখি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেশ উদ্বেগের সঙ্গে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাজ্য। আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা, টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি কোষাগারে টানাটানির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশটির সরকারি বন্ডের দর অনেক দ্রুত কমছে।
ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘কোবরা’ নামের এই জরুরি বৈঠকে যুক্তরাজ্যের সাধারণ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও অংশ নেবেন। র্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর এ যুদ্ধের প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের কোনো ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও তিনি আপাতত তা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কিছু সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের আলটিমেটামে বিশ্ববাজারে বেড়ে গেছে তেলের দাম
ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম এবং ইসরায়েলের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর আজ সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে প্রণালিটি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল সতর্ক করেছে যে এ যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গ্রিনিচ মান সময় গতকাল রোববার রাত ১০টায় বাজার খোলার পরপরই মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মে মাসের সরবরাহের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যদিও পরে তা কিছুটা কমেছে।
একই সময়ে নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের মে মাসের সরবরাহের দামও সমহারে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৩ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে লেনদেন শুরুর ৪৫ মিনিটের মাথায় তা কিছুটা কমে ১১১ ডলারের আশপাশে থিতু হয়।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর আগের দিন ডব্লিউটিআই ও ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ব্যারেল প্রতি ৬৭ দশমিক ০২ এবং ৭২ দশমিক ৪৮ ডলার।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিভিন্ন স্থানে সতর্কসংকেত
ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ইরানের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। জেরুজালেম ও মধ্য ইসরায়েলসহ দক্ষিণ ইসরায়েলে একাধিক সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার খবরে কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে বিস্ফোরণের খবর। ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় ইরান ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ-বোমা ব্যবহার করেছে। এগুলো থেকে ছোট ছোট বহু বোমা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের অন্তত আটটি স্থানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা বিস্ফোরক পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে উত্তর ইসরায়েলের অনেক এলাকায় সতর্ক সাইরেন বাজানো হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। সেখানকার মানুষকে শেল্টার থেকে বেরিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার থেকে ইসরায়েলে এই হামলার ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ইসরায়েলে প্রায়ই সতর্ক সংকেত বাজানো হচ্ছে। কারণ এলাকাটি এখন কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলারই নয় বরং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহরও নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ভারতীয় নাগরিক আহত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ভারতীয় নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন। আবুধাবি মিডিয়া অফিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, আবুধাবির আল শাওয়ামেখ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আমিরাতের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করে দিলেও এর খণ্ডিতাংশ নিচে পড়লে ওই ব্যক্তি আহত হন।
সূত্র: আল–জাজিরা
লেবাননের কাসমিয়া সেতুতে ইসরায়েলি হামলা, ত্রাণ সরবরাহ হুমকির মুখে
লেবাননের কাসমিয়া সেতুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে দেশটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। এই হামলার ফলে লেবাননের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই হামলার প্রভাব লেবানন সরকারের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লেবাননের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের সংযোগকারী এই সেতুগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে লিটানি নদীর দক্ষিণ অংশে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়ে আছেন। তাঁদের বেশিরভাগই বিভিন্ন স্কুল, হাসপাতাল ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। কিন্তু যাতায়াতের প্রধান পথগুলো ভেঙে পড়ায় তাঁদের কাছে পৌঁছানো লেবানন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বেসেন্ট বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো দুর্বল করতে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে একটি অভিযান শুরু হয়েছে। এসব স্থাপনা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।’
যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের খবর প্রকাশের ধরনের সমালোচনা করেন বেসেন্ট। তাঁর মতে, মার্কিন কর্মকর্তারা আসলে কী করছেন, সে বিষয়ে মার্কিনিদের কাছে ‘সঠিক চিত্র’ তুলে ধরা হচ্ছে না।
এর আগে একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’ এবং তারা ‘বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে’। মারফির এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বেসেন্ট বলেন, ‘সিনেটরের এই দাবি ভুল। আমরা ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছি।’
সূত্র: আল–জাজিরা
হরমুজ সংকট: ইরানসহ চার দেশের সঙ্গে ইইউর আলোচনা
হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকট নিরসনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস। গত রোববার তাঁদের মধ্যে এই আলাপ হয় বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন ইইউর এক কর্মকর্তা।
আরাগচি ছাড়াও তুরস্ক, কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেছেন কালাস। ইইউর ওই কর্মকর্তা জানান, চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক পথ খোঁজার অংশ হিসেবেই এই দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি।
ফোনালাপে চলমান যুদ্ধ, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এর আগে গত বুধবারও আরাগচির সঙ্গে আলাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন কালাস।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউর ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ‘বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার নতুন যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।’
সূত্র: আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালি নিয়ে হুমকিতে বিচলিত হবে না ইরান: আরাগচি
হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, এই জলপথটি এখন ‘বন্ধ নয়’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে আরাগচি বলেন, ‘ইরানের কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে না; বরং আপনাদের শুরু করা যুদ্ধের আতঙ্কে বীমা কোম্পানিগুলো সরে দাঁড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আর কোনো হুমকিতে কোনো বীমাকারী কিংবা কোনো ইরানি বিচলিত হবেন না।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান বিপদের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী। সেই বিবৃতির পরই আরাগচির এই পোস্ট দিয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই: ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট
ইরানের জ্বালানি ও খাদ্যের মজুদ ‘ভালো অবস্থায়’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ।
বার্তা সংস্থা ইসনার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরেফ বলেন, ‘জ্বালানি, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।’ তিনি আরও জানান, জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
আরেফ বলেন, ‘পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যাংকিং সেবা ও পেমেন্ট সিস্টেমগুলো কোনো বিঘ্ন ছাড়াই সচল রয়েছে এবং দেশে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক আছে।’
সূত্র: আল–জাজিরা
ইসরায়েলে যুদ্ধে আহত ৪ হাজার ৬৯৭: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪ হাজার ৬৯৭ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় বলেছে, আহতদের মধ্যে ১২৪ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ১৪ জনের অবস্থা ‘গুরুতর’।
সূত্র: আল-জাজিরা
মার্কিন ট্রেজারি বন্ড কিনলে হামলার হুমকি ইরানের স্পিকারের
মার্কিন সামরিক বাজেটে অর্থায়নকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা মার্কিন ট্রেজারি বন্ড কিনবে, তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, ‘মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ইরানিদের রক্তে ভেজা। এই বন্ড কেনার অর্থ হলো আপনাদের সদর দপ্তর ও সম্পদের ওপর হামলার পথ প্রশস্ত করা।’
বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের পোর্টফোলিও (বিনিয়োগের তালিকা) পর্যবেক্ষণ করছি। এটিই আপনাদের জন্য শেষ সতর্কতা।’
এর আগে তেহরান যদি পুনরায় হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে না দেয় তাহলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের ওই হুমকির জবাবে গালিবাফ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি দেন।
সূত্র: আল–জাজিরা
ইসরায়েলের হামলায় লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ কাসমিয়া সেতু ক্ষতিগ্রস্ত
ইসরায়েলের বিমান বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর ওপর অবস্থিত কাসমিয়া সেতুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এতে সেতুটি বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দক্ষিণ লেবাননের আল-খরায়েব পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) এ খবব জানিয়েছে।
ইসরায়েলের কান সম্প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে সেতুর ওপর ও আশপাশে বিস্ফোরণ হতে দেখা গেছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আগেই দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর ওপরের সব সেতু ও সংযোগস্থলে হামলার হুমকি দিয়েছিল। সেতুটি দক্ষিণ লেবাননের সঙ্গে দেশটির বাকি অংশের সংযোগ রক্ষাকারী প্রধান পথ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এনএনএ জানিয়েছে, হামলায় স্থানীয় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক, ক্যাবল এবং আল-খরায়েবে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান লাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতকারী দল আগামীকাল সোমবার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে।
অবকাঠামোতে হামলা ‘সামষ্টিক শাস্তি’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, কাসমিয়া সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইসরায়েলের হামলা মূলত ‘সামষ্টিক শাস্তি ও আগ্রাসনের নীতি’। তিনি একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং লেবাননের গ্রামাঞ্চলের বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা ধ্বংসের একটি পদ্ধতিগত পরিকল্পনা বলে হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
লেবাননে নিহত বেড়ে ১ হাজার ২৯
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিসংখ্যান বলছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৯ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আরও ২ হাজার ৭৮৬ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও আল–জাজিরা
ইরানে ইসরায়েলি গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেপ্তার আরও ২৫ জন
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক, তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ।
ইরানের বিচার বিভাগ দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে রোববার জানায়, তারা মামলা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত, গ্রেপ্তার ও সংবাদ সংস্থা বন্ধসহ বিভিন্ন ‘শিক্ষামূলক’ সভার আয়োজন করেছে। সব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলেও এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে টানা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রোববার পর্যন্ত ২৩ দিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ টানা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
দেশটির অল্প কিছু সংখ্যক সাধারণ মানুষ স্টারলিংক ব্যবহার করে গোপনে ইন্টারনেট ব্যববহার করছেন। কিন্তু সরকারি বাহিনী স্টারলিংকের স্যাটেলাইট শনাক্ত করে গুলি করে ধ্বংস করছে।
গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেপ্তার আরও ২৫ জন
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির মারকাজি প্রদেশ থেকে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সামরিক স্থাপনার তথ্য ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে সরবরাহ এবং ‘অশান্তি’ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তা ছাড়া গোলেস্তান প্রদেশ থেকে পুলিশের কেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে বিভিন্ন অভিযোগে এ পর্যন্ত কয়েক শ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা আরও জানায়, বিদেশে থাকা ১৫ জন ইরানি নাগরিকের ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ নথিবদ্ধ করে বিচার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ইরান সরকার প্রবাসীদের সতর্ক করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা করলে দেশে থাকা তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
সূত্র: আল–জাজিরা
দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিকের মতে ইরান যুদ্ধ ‘ইচ্ছাকৃত’ : জরিপ
যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ যতটা না প্রয়োজন ছিল, তার চেয়ে বেশি ইচ্ছাকৃত। সিবিএস নিউজ ও ইউগভের নতুন জরিপ থেকে এই মতামত জানা গেছে।
গত ১৭ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৩ হাজার ৩৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক মতামত দিয়েছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন, যা চলতি মাসের শুরুতে ছিল ৫৬ শতাংশ।
প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধের লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। এ ছাড়া ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধ আমেরিকার জন্য খারাপ দিকে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে ৬৬ শতাংশ মানুষ এটাকে ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ এবং ৩৪ শতাংশ ‘প্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ বলে মনে করেন। ৯২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৭৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এটাকে ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ মনে করলেও ৬৭ শতাংশ রিপাবলিকান যুদ্ধটিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন।
তবে জরিপে অংশ নেওয়াদের প্রায় ৯২ শতাংশ একটি বিষয়ে একমত। তা হলো— ‘এই সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা জরুরি’। তা ছাড়া ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের জনগণের নিরাপত্তা, ৭৩ শতাংশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং ৬৮ শতাংশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়ে মার্কিন জনমত বিভক্ত। ৪৯ শতাংশ মানুষ ইরানপন্থী নেতৃত্ব চান, অন্যদিকে ৫১ শতাংশ এর প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না।
ইরানে বর্তমান শাসনক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যুদ্ধ শেষ করা গ্রহণযোগ্য কি না—তা নিয়ে ৪৭ শতাংশ ইতিবাচক এবং ৫৩ শতাংশ নেতিবাচক মত দিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন
ইসরায়েলের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের
ইসরায়েলের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। কিন্তু ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থার কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত আইএআইয়ের স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
পাশাপাশি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে থাকা একটি মার্কিন নজরদারি বিমানেও হামলার দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
হামলার প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আল-জাজিরা স্বাধীনভাবে এসব খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে এসব হামলার বিষয়ে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে তাদের দেশের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় রোববার মধ্যরাতের পর ইরানের দিক থেকে এটি অষ্টম দফার হামলা।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে শিগগির সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা












0 Comments