বাংলাদেশের জন্য সিরিজটা মাঠে ফেরার। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকা বাংলাদেশ আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে তিন মাসের বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ-যাত্রার শুরু।
আগামী বছর ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। বিশ্বকাপের জন্য যতটা সম্ভব সেরা প্রস্তুতির বিষয় তো আছেই, তারও আগে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য র্যাঙ্কিংয়ে এগোতে হবে। পাকিস্তান সিরিজে ভালো খেলে সে পথে এগিয়ে যেতে যান বাংলাদেশ কোচ।
আগামীকাল শুরু সিরিজ সামনে রেখে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন সিমন্স। সিরিজ থেকে দলের লক্ষ্য নিয়ে কোচ বলেন, ‘লক্ষ্য র্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকে ওঠা, শুধু আট নম্বরে থেকে সরাসরি কোয়ালিফাই করা নয়। আসল বিষয় হলো আমরা টেবিলের ওপরের দিকে যেতে চাই। কোয়ালিফিকেশনের সময় যদি আমরা সাত বা ছয়ে থাকতে পারি তবে ভালো, কিন্তু আমরা মূলত টেবিলের ওপরের দিকে যেতে চাই। তার মানে দল হিসেবে আরও ভালো ক্রিকেট খেলা।’
বর্তমানে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দশে। বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করতে অবস্থান নিতে হবে আটের মধ্যে। র্যাঙ্কিংয়ে এগোনোর চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য প্রথম প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, যে দলটি আছে চারে। তবে ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার ইতিহাস আছে বাংলাদেশের। সর্বশেষ ২০১৫ সালের সফরে ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তান, যেটিতে বাংলাদেশ জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। এবার একই দলের বিপক্ষে সাফল্যর পুনরাবৃত্তি চায় বাংলাদেশ, তবে চ্যালেঞ্জের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কোচ, ‘তারা এবারও নিশ্চয়ই ৩-০ ব্যবধানে হারতে চাইবে না। তারা এই সিরিজে খুব শক্তভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। আরেকটি বিষয় হলো এই সিরিজের উইকেট অনেক ভালো হবে। তাই আমরা এই সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি। এই সিরিজটি আমাদের জন্য ২০২৭ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পথের শুরু।’
শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান এবার বাংলাদেশে এসেছে এখনো ওয়ানডে অভিষেক না হওয়া ৬ জনকে নিয়ে। তবে সিমন্স এটিকে বড় করে দেখছেন না, ‘পাকিস্তান থেকে উঠে আসা কোনো ক্রিকেটারকেই খাটো করে দেখা যাবে না, কারণ সেখানে সবসময়ই প্রতিভা থাকে। আর কেউ যখন স্কোয়াডে চলে আসা, তখন নতুন হওয়া কোনো বড় বিষয় নয়। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেই দলে আসে।’
সিমন্স জানিয়েছেন, পাকিস্তান সিরিজে লিটন দাস মিডল অর্ডারে ব্যাট করবেন। পেনার হিসেবে একাধিক সেঞ্চুরি করা এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানকে মিডল অর্ডারে নামানোর ব্যাখ্যায় কোচ বলেন, ‘একজন ওপেনার হিসেবে ৫০ ওভার কিপিং করা খুব কঠিন। এ ছাড়া সে স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে আমাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তাই সে মিডল অর্ডারে থাকলে আমাদের সাহায্য হবে। মিডল অর্ডার আমাদের অন্যতম দুর্বল জায়গা ছিল। তাই তার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা দিয়ে আশা করি আমরা সেখানে যা প্রয়োজন তা পাব।’
সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সব কটি ম্যাচই হবে মিরপুরে।



0 Comments