এই শতকের শুরুতে বলিউডের জনপ্রিয় আইটেম ড্যান্সারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুমাইত খান। ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’ ছবির ‘দেখ লে’ গানে তাঁর নাচ তাঁকে রাতারাতি পরিচিত করে তোলে। এরপর ‘রাউডি রাঠোর’, ‘পিক্কিরি’সহ হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষার বহু ছবিতে নিয়মিত দেখা গেছে তাঁকে।
কিন্তু হঠাৎই ২০১৬ সালের দিকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যান মুমাইত। অনেকেই ভেবেছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় শোবিজ ছেড়ে দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মুমাইত জানিয়েছেন, এক ভয়াবহ ব্রেন ইনজুরিই তাঁর ক্যারিয়ারে পূর্ণচ্ছেদ টেনে দেয়।
মস্তিষ্কে রক্তনালি ফেটে কোমায়
সম্প্রতি আইড্রিম মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুমাইত বলেন, ‘আমি ইন্ডাস্ট্রি ছাড়িনি। আমার একটা দুর্ঘটনা হয়েছিল। আমার মস্তিষ্কের পাঁচটি নার্ভ (রক্তনালি) ফেটে যায়। ডাক্তাররা আমাকে অন্তত সাত বছর কাজ না করতে বলেন। এমনকি ভারী কিছু তোলাও নিষেধ ছিল।’
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর ১৫ দিন কোমায় ছিলেন তিনি। দীর্ঘ পুনর্বাসন ও চিকিৎসার কারণে বহু বছর তিনি কাজ করতে পারেননি। এ সময়ে আর্থিকভাবেও পরিবারকে ভীষণ চাপের মুখে পড়তে হয়।
মুমাইতের কথায়, ‘সৃষ্টিকর্তা আমাকে মুমাইত খান বানিয়েছেন, আবার তিনিই সেখানে ফুলস্টপ টেনেছেন। আমি সেটা মেনে নিয়েছি।
উজ্জ্বল ক্যারিয়ার, হঠাৎ থেমে যাওয়া ২০০১ সালে তামিল ছবি ‘মাজুনু’-তে অতিথি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিষেক হয়। এরপর বলিউডে ‘ইয়ে কেয়া হো রাহা হ্যায়’ সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে ২০০৩ সালে ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’-এর আইটেমনম্বরই তাঁকে সর্বভারতীয় পরিচিতি দেয়।
পরবর্তী এক দশকে তিনি কাজ করেন তিন ডজনেরও বেশি ছবিতে। তাঁর শেষ দিকের কাজ ছিল হিন্দি ছবি ‘এনিমি’ও তেলুগু ছবি ‘থিক্কা’, ‘ডিকটেটর’ ইত্যাদি।
এখন কী করছেন মুমাইত?
দীর্ঘ অসুস্থতার সময়েই জীবনের নতুন দিক খুঁজে পান মুমাইত। তিনি জানান, এ সময়ে তিনি বুঝতে পারেন, মেকআপ ও হেয়ার স্টাইলিংই তাঁর প্রকৃত প্যাশন। বর্তমানে তিনি একটি হেয়ার ও মেকআপ ক্লিনিক পরিচালনা করছেন, যা ভালোভাবেই চলছে। তাঁর ভাষায়, ‘প্রতিটি গানে, প্রতিটি ছবিতে আমি আলাদা লুক করতাম। তখনই বুঝেছিলাম, মেকআপ আর হেয়ার আমার খুব পছন্দ।’
বর্তমানে ৪০ বছর বয়সী মুমাইত বলেন, বলিউড ছাড়ার জন্য তাঁর কোনো আফসোস নেই, কারণ সেটা তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।


0 Comments