Ad Code

সুস্থ দেহে শুদ্ধ রমজান, ইবাদত কাটুক প্রশান্তিতে

 

সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাস রমজান। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের জন্য মাসটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং জীবনধারা পরিবর্তনের একটি বড় সুযোগ। সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এই বিধান সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক সবার জন্য ফরজ করা হয়েছে। তবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা অসুস্থ ও জীবন ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছেন। বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে, রমজানে এই রোজা রাখা কেবল ধর্মীয় ইবাদত নয়; বরং শরীরকে নবজীবন দান করার একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এই সুফল পেতে হলে প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতা। এটি থাকলে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও নিরাপদভাবে রোজা সম্পন্ন করতে পারেন।


রোজার শারীরিক ও মানসিক সুফল

চিকিৎসকদের মতে, রোজার শারীরিক সুফল অপরিসীম। এটি কেবল আধ্যাত্মিক প্রশান্তিই আনে না; বরং শরীরের মেটাবলিক কার্যকারিতা উন্নত করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং ফ্যাটি লিভারের রোগীদের লিভারের চর্বি কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। এ ছাড়া নিয়মিত ইবাদত ও শৃঙ্খলার কারণে মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায় ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী হয়। এর প্রধান উপকারিতাগুলো হলো:

ওজন ও চর্বি নিয়ন্ত্রণ: শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে রোজা অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে।

শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করা এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

শরীরের পরিশোধন: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে ‘অটোফ্যাজি’ প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা কোষের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়।

মানসিক প্রশান্তি: নিয়মিত প্রার্থনা ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের ফলে মানসিক চাপ কমে এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে।


ঝুঁকি ও সতর্কতা: কাদের জন্য রোজা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে 

যদিও রোজা সুস্থ মানুষের জন্য কল্যাণকর, তবে কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। 

চিকিৎসকেরা উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রেখেছেন তাঁদের, যাঁদের:

১. রক্তে শর্করার গড় ৯ শতাংশের বেশি।

২. গত তিন মাসে যাঁরা গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় (রক্তে সুগার কমে যাওয়া) আক্রান্ত হয়েছেন।

৩. টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস কিটোঅ্যাসিডোসিসের ইতিহাস আছে।

৪. কিডনির রোগে যাঁরা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছেন বা ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন।

৫. গর্ভবতী নারী এবং অতি বৃদ্ধ ও দুর্বল ব্যক্তি।

এসব ক্ষেত্রে রোজা রাখার জেদ না করে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই শ্রেয়।


ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি

রোজা থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় পানি পান না করায় পানিশূন্যতা ও রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা অনেক বেড়ে যাওয়া (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) এবং গ্যাস্ট্রিক আলসারের চাপে থাকার মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই রমজান শুরুর অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের ডোজ ও সময় সমন্বয় করা জরুরি।

সাহ্‌রি ও ইফতারে সঠিক খাদ্যাভ্যাস

রমজানে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো সুষম খাবার। সাহ্‌রি বাদ দেওয়া যাবে না এবং তা যতটা সম্ভব দেরিতে খাওয়া উত্তম। সাহ্‌রিতে লাল আটার রুটি, ওটস বা ব্রাউন রাইসের মতো ‘স্লো বার্নিং’ কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন হিসেবে ডিম বা ডাল রাখা ভালো। ইফতারে খেজুর ও লেবুপানি দিয়ে রোজা ভেঙে ১৫-২০ মিনিট পর প্রধান খাবার গ্রহণ করা উচিত। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, (বেগুনি, পেঁয়াজু বা জিলাপি) এড়িয়ে প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। মনে রাখতে হবে, ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক টিটু মিয়া। 

সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতাই পারে আপনার ইবাদতকে নির্বিঘ্ন ও প্রশান্তিময় করতে। সুস্থ দেহ নিয়ে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত হোক কল্যাণকর।

আরও পড়ুন.........








সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন

Post a Comment

0 Comments

Close Menu