ইরানে আজ শনিবার যৌথভাবে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ হয়েছে। জবাবে ইরানও ‘শত্রুপক্ষের’ বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশে বিস্ফোরণ হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ২৪ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনহাব শহরে এ হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়। আর ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা ফার্স–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ঘটনাস্থলে থাকা আল–জাজিরার প্রতিবেদক বলেন, শহরটিতে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা সেয়েদ খান্দানেও বিস্ফোরণ হয়েছে। ইরানের অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশসহ দেশজুড়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ও পারচিন সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই যৌথ হামলার লক্ষ্য হলো ‘ইরানি শাসকদের দিক থেকে আসন্ন হুমকি নির্মূল করা।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের ওপর হামলার লক্ষ্য হলো ‘বিদ্যমান হুমকি’ দূর করা। তাঁর দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এ যৌথ পদক্ষেপ ‘সাহসী ইরানিদের তাদের ভাগ্য নিজের হাতে গড়ার সুযোগ তৈরি করবে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ঐতিহাসিক নেতৃত্ব’–এর প্রশংসা করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে ‘নৃশংস অভিযান’ উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলার মধ্যে এ হামলা হয়েছে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে পরিষদ লিখেছে, ‘আবারও আলোচনা চলমান অবস্থায় হামলা হলো। শত্রুপক্ষ ভেবেছিল, এমন ভীরুচিত্তের হামলার মধ্য দিয়ে তারা সহনশীল ইরানি জাতিকে তাদের অপ্রয়োজনীয় দাবিদাওয়াগুলো মানতে বাধ্য করতে পারবে।’
সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতেও বিস্ফোরণ
ইরানে হামলার পরপরই পাল্টা হামলার আশঙ্কা করছিল ইসরায়েল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরায়েলি বাহিনী কাজ করছিল। তবে এর মধ্যেই দেশটির উত্তরাঞ্চলে বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতেও বিস্ফোরণ হয়েছে।
এক উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা আল–জাজিরাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব স্থাপনা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো এখন বৈধ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে গেছে। এই আগ্রাসনের পর আর কোনো লাল রেখা থাকছে না।’
ফার্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কাতারে আল–উদিদ বিমানঘাঁটি, কুয়েতে আল–সালেম বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আল–দারফা বিমানঘাঁটি ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটে হামলা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। আবুধাবিতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবের রিয়াদেও বিস্ফোরণ হয়েছে।
উপসাগরীয় এসব দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ হামলাকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তারা।
উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানের হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা চলতে থাকলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান
মার্কিন এক কর্মকর্তা আল–জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার জন্য ইরানকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রয়টার্সকে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আকাশ ও সমুদ্র থেকে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, খামেনি তেহরানে নেই এবং তাঁকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইসরায়েলি এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কয়েক মাস ধরে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হামলার তারিখ কয়েক সপ্তাহ আগেই ঠিক করা হয়েছিল।


0 Comments